সাভারের বিরুলিয়ায় বৃদ্ধ দেলোয়ার হোসেন (৬০) হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানাধীন বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আল আমিনের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযানে গাজীপুর থেকে মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
আজ (৭ জুন) গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার মডেল থানাধীন বিরুলিয়া ইউনিয়নের সারুলিয়া এলাকার আইজাহ ফুড কোম্পানির পূর্ব পাশে, বসুন্ধরা কোম্পানির একটি পুকুরের ধার থেকে দেলোয়ার হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত দেলোয়ার হোসেন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার গঙ্গানগর গ্রামের রশিদ কয়েলের ছেলে। তিনি মিরপুরের মাজার রোড (লালকুঠি) এলাকায় বসবাস করতেন।
লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এবং সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং-৩০(৬)২৬, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড)।
মামলা দায়েরের পর পরই ঘাতকদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে নামেন বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আল আমিন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান নিশ্চিত করে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন বাসুরা গ্রামে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর ও মূল আসামি মো: রফিক মোল্লাকে (৬৫) গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। গ্রেফতারকৃত রফিক মোল্লা সারুলিয়া এলাকার মৃত আমছের আলীর ছেলে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর মূল আসামি রফিক মোল্লাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করানোর জন্য আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে সে বিচারকের খাস কামরায় হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।
বিরুলিয়া ফাঁড়ি পুলিশ হত্যা'র ঘটনা'র পর পরই অভিযান ও রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে তাৎক্ষণিক তৎপরতা শুরু করে পুলিশ। বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আল আমিন-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সারুলিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি জালাল মোল্লা ওরফে জালু মোল্লাকে (পিতা- রফিক মোল্লা) গতকাল গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়!
এদিকে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার করায় বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আল আমিনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয় জনতা। অপরাধীদের দমনে পুলিশের এমন দ্রুত ও কার্যকরী ভূমিকা এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে বলে জানান তারা।