সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত ব্যাবিলন গ্রুপের ‘অবনী ফ্যাশন লিমিটেড’ নামক তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক মোঃ সুজন (সজল)-কে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য রাখেন রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের নেত্রী লাভলী ইয়াসিন, বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের কামরুন নাহার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফেডারেশনের মরিয়ম আক্তার শিউলি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের নজরুল ইসলাম সবুজ এবং সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের ইয়াহিয়া খানসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। জিএম-এর বিরুদ্ধে মারধর ও নিখোঁজের গুরুতর অভিযোগ মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, মাত্র একদিন কারখানায় অনুপস্থিত থাকার কারণে গত সপ্তাহে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে অবনী ফ্যাশন লিমিটেডের জিএম (জেনারেল ম্যানেজার) মোঃ তোফাজ্জল শ্রমিক সুজনকে তার চেম্বারে ডেকে নেন। সেখানে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে জিএম তোফাজ্জল সুজনকে পুনরায় তার চেম্বারে ডাকেন। এরপর থেকে সুজনকে আর কারখানার প্রোডাকশন ফ্লোরে দেখা যায়নি। দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কারখানার মাইকে হঠাৎ ঘোষণা দেওয়া হয় যে, একজন শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দের দাবি, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং জিএম-এর চেম্বারেই সুজনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জিএম-এর রুমে যাওয়ার পর সুজনের সাথে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন।